শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪৫:৪৬ পিএম

ব্যাংক লুটেরাদের নাম প্রকাশ করতে চান না অর্থমন্ত্রী

রাজনীতি | রবিবার, ১০ জুন ২০১৮ | ০৬:৫২:৪০ পিএম

জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়ন ম্লান করে দিয়েছে এক ব্যাংকিং খাত। ব্যাংক লুটপাটকালীদের শাস্তির আওতায় এনে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি ।

রবিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক মালিকদের বাড়তি সুবিধা দেয়ায় তারা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনায় খই ফোটার মতো মুখর হয়ে ওঠেন। অর্থমন্ত্রী মুহিত এসময় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, ২-৩ বছর ধরে আমরা বারবার ব্যাংক লুট নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি। লুটকারীরা টাকা নিয়ে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী মানুষের করের টাকা দিয়ে মুলধন সরবরাহ করে যাচ্ছেন। সেখান থেকে আবার কিছু মানুষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ব্যাংক সংস্কারে কমিশন করার কথা বলেছিলেন। বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বললেন, করবেন না। সংস্কার কমিশন গঠিত হলে কারা লুটপাট করেছে কীভাবে করেছে সব বেরিয়ে আসতো। নিশ্চয় অর্থমন্ত্রী এটা প্রকাশ করতে চান না।

বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পীর ফজলুর রহমান বলেন, বড় বাজেট নিয়ে আত্মতুষ্টির কিছু নেই। কারণ গড় মাথাপিছু আয় ৭০০ ডলার থেকে বেড়ে এক হাজার ৭০০ ডলার হলেও সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষের আয় কত? আয় কমেছে। মানুষে মানুষে বৈষম্য বেড়েছে। অনেকেই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ধনী ও বিত্তশালীরা ফুলে ফেপে বড় হচ্ছে। আর গরিব আরো গরিব হচ্ছে।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহর দরবারে বিচার হবে। কাদের টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। তুঘলকি আমল নাকি? মাহমুদ গজনীর সোমনাথ মন্দির লুটের পর আর এত বড় লুট হয়নি, যা হয়েছে আমাদের ব্যাংকে। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ডাকাতদের কেন সুযোগ দিলেন? তাদের কেন প্রটেকশন দিলেন? সারচার্জ নেন। মাঝে মাঝে মেসেজ আসে ১০-২৫ টাকা নিয়ে নেয়। ইনভ্যালিড সারচার্জ। এখন প্রতি মুহূর্তে টাকা কাটে। এই টাকা লুট হয়। ব্যাংকওয়ালারা কী ভোট দেবে? সাধারণ মানুষের দিকে তাকালেন না! নির্বাচনের আগে বড়লোকরা দেশত্যাগ করবে, লিখে রাখেন। গরিবরা, মজুররা ভোট দেবে। বড়লোকদের পাবেন না। পাসপোর্ট দেখেন না কেন? সব তো হাতে।

মানুষ এখন ব্যাংকে আমানত রাখতে ভয় পায়’ মন্তব্য করে স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখে মানুষ নিরাপত্তার জন্য। মানুষ ভীত হয়ে গেছে। টাকা পাচার হয়ে যায়। ঋণের নামে টাকা পাচার করে। লক্ষ লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে গেছে। ঋণ খেলাপি কারা অনেকেই জানেন। ব্যাংক, বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করহার কমানোর সমালোচনা করে ফরাজী বলেন, ব্যাংক মালিকদের আমরা আবার সুযোগ করে দিয়েছি। সর্বনাশ করে ফেলবে, ব্যাংক বলতে আর কিছু রাখবে না। এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক রেখেছেন। আবার তাদের ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হলো। যে টাকা খেলাপি, সেই টাকা আদায়ের জন্য কী করা যেতে পারে? ভবিষ্যৎ সরকার না, কমিশন আপনিই (অর্থমন্ত্রী) করেন। ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সরকারকে টাকা দেয়। আর আমরা ব্যাংককে ক্যাপিটাল দেই। তারা পারছে, আমরা কেন পারবো না?

যে টাকা খেলাপি সেই টাকা আদায়ের জন্য কি করা যেতে পারে? ভবিষ্যত সরকার না, কমিশন আপনিই (অর্থমন্ত্রী) করেন। ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সরকারকে টাকা দেয়। আর আমরা ব্যাংককে ক্যাপিটাল দেই। তারা পারছে আমরা কেন পারবো না?

স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, নিরাপত্তার জন্য মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে। কিন্তু মানুষ ভীত হয়ে গেছে। ঋণের নামে টাকা পাচার করে। লাখ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে গেছে। ঋণখেলাপি কারা অনেকেই জানেন।আবার সুযোগ করে দিয়েছি। সর্বনাশ করে...ব্যাংক বলতে আর কিছু রাখবে না। এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক রেখেছেন। আবার তাদের ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হলো।পূর্বপশ্চিমবিডি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন