রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ ০৯:০৯:২০ পিএম

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ

জাতীয় | সোমবার, ১১ জুন ২০১৮ | ১০:৫৭:৩৫ এএম

আজ ১১ জুন। শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের এই দিনে তাঁর বিরুদ্ধে করা তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের করা সবগুলো মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তি পান তিনি। শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্য দিয়ে দু বছর ধরে অবরুদ্ধ থাকা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুক্তির দ্বার উন্মোচিত হয়।

২০০৭ সালে দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। সামরিক বাহিনী ও দেশের একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক সংস্কারের নামে বাংলাদেশের বৃহৎ দুইটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতির বাইরে পাঠাতে তুমুল প্রচার-প্রচারণা ও প্রপাগান্ডা চালাতে থাকে, যা ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নামে দেশের রাজনীতিতে খ্যাতি পায়, যার প্রধান কুশীলব বলে মনে করা হয় তৎকালীন সেনা প্রধান মইন ইউ আহমেদকে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাঁর বাসভবন সুধাসদন থেকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে তাঁর নামে অনেকগুলো মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। শেখ হাসিনার প্রতি দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

মুক্তি পেয়েই শেখ হাসিনা চিকিৎসা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন, যে নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। শেখ হাসিনাকে মুক্তির মাত্র ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় সরকার আর নির্বাচনের গণরায় স্পষ্টভাবে শেখ হাসিনার পক্ষে যায়। এই গণরায়ই প্রমাণ করে দেয়, শেখ হাসিনা সাধারণ জনগণের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্তটি ছিল অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি হঠকারি সিদ্ধান্ত।

এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বিজয়ের ফলে অগণতান্ত্রিক-অনির্বাচিত সরকারের বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে শেখ হাসিনার এই কারামুক্তি দিবসকে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারাভোগ ও কারামুক্তির পর শেখ হাসিনার নবজন্ম হয়, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপ্রতিদ্বন্ধী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। সেদিনের পর থেকে শেখ হাসিনা আগের শেখ হাসিনা থেকেও অনেক বেশি ক্ষমতাবান হিসেবে বিবেচিত হন যে ক্ষমতা দেশের জনগণ তাঁকে ভালোবেসে দিয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন