মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:২০:০৪ এএম

সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কদরের রাত চেনার উপায়

ধর্ম | মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮ | ১১:০৮:৫৭ পিএম

ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্পর্কে তুমি কী জান? কদরের রাত সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তি বিরাজ করে ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত (সুরা কদর, আয়াত ১-৫)।

কদরের রাতে অজস্র ধারায় আল­াহর খাস রহমত বর্ষিত হয়। এ রাতে এত অধিকসংখ্যক রহমতের ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন যে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত এক অনন্য শান্তি বিরাজ করতে থাকে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবেকদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন (মাজহারি)।

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে দণ্ডায়মান হয়, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (বোখারি ও মুসলিম)। যে রাতটি লাইলাতুল কদর হবে, সেটি বোঝার কিছু আলামত হাদিসে বর্ণিত আছে।

সেগুলো হলো- ১. এ রাতটি রমজান মাসে নিহিত। ২. এ রাতটি রমজানের শেষ দশকে রয়েছে। রসুল (সা.) বলেছেন, রমজানের শেষ দশ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ করো (বোখারি)। ৩. এটি রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ করো (বোখারি)।

৪. এ রাত রমজানের শেষ সাত দিনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ৫. রমজানের ২৭ রজনী লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। উবাই ইবনে কাব রসুল (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল­াহর শপথ করে বলছি, আমি যতদূর জানি রসুল (সা.) আমাদের যে রজনীকে ‘কদরের রাত’ হিসেবে কিয়ামুল­াইল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা হলো রমজানের ২৭তম রাত (মুসলিম)। ৬. কদরের রাত হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনার দিক থেকে পরবর্তী দ্বিতীয় সম্ভাবনা ২৫ তারিখ, তৃতীয় ২৯, চতুর্থ ২১ এবং পঞ্চম হলো ২৩ তারিখের রজনী।

৭. সর্বশেষ আরেকটি মত হলো, মহিমান্বিত এ রজনীটি স্থানান্তরশীল। অর্থাৎ প্রতিবছর একই তারিখে বা একই রজনীতে তা হয় না এবং শুধু ২৭ তারিখেই এ রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়। আল­াহর হিকমত ও তাঁর ইচ্ছায় কোনো বছর তা ২৫ তারিখে, কোনো বছর ২৩ তারিখে, কোনো বছর ২১ তারিখে, আবার কোনো বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে। ৮. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না এবং নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।

৯. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে এবং সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে। ১০. কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল­াহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন। ১১. ওই রাতে বৃষ্টি হতে পারে। ১২. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো (বোখারি ও মুসলিম)।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন