শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০২:৪৪:২১ পিএম

ভালোবাসার প্রমান দিতে নিজেকে ক্ষত বিক্ষত করলো নাছোরবান্দা স্বামী

পিরোজপুর সংবাদদাতা | জেলার খবর | বাগেরহাট | পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া | সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১০:২৪:৪৪ এএম

ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করতে গিয়ে গার্মেন্টস কর্মী রাবেয়ার( ২৭) সাথে পরিচয় ঘটে অটো চালক মিন্টু সরদারের(৩৫)সাথে। পরিচয় থেকে প্রণয় । এরপর তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির ঘরে ১১ মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। এমন অবস্থায় উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। 
সম্প্রতি রাবেয়া তার শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকা থেকে পালিয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড় শিংগা গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এসেই স্বামী মিন্টুকে তালাকনামা পাঠায়। কিন্তু নাছোরবান্দা প্রেমিক মিন্টু স্ত্রীর তালাক মানবেনা। তাই স্ত্রীকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে শ্বশুর বাড়িতে সকলের সামনে ব্লেড দিয়ে নিজের সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত করলেন।
আজ রোববার বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় শিংগা গ্রামে স্ত্রী কর্তৃক তালাক প্রাপ্ত স্বামী মিন্টু এমন কান্ড ঘটায়। পরে আহত মিন্টু থানা পুলিশের কাছে প্রতিকার চাইতে থানায় উপস্থিত হন। পুলিশ নাছোরবান্দা প্রেমিক মিন্টুকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। ধারালো ব্লেডে রক্তাক্ত মিন্টু মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
থানা ও হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করার সুবাদে মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় শিংগা গ্রামের দিন মজুর আবদুল হালিম মৃধার মেয়ে রাবেয়া বেগম(২৭) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের নাদের আলী সরদারের ছেলে অটো চালক মিন্টু ওরফে সাগর(৩৫) প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সাড়ে তিন বছর পূর্বে সাগরের সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয় রাবেয়া। বিয়ের পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জের ধরে রাবেয়া বেগম ঢাকা থেকে পালিয়ে মঠবাড়িয়ায় বাবার বাড়িতে চলে আসে।
বাড়িতে এসে গত ২৪ আগষ্ট রাবেয়া বেগম নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে স্বামী মিন্টুকে ডিভোর্স লেটার পাঠায়। এদিকে ডিভোর্সের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়ায় চলে আসে মিন্টু। শ্বশুর বাড়ি গিয়ে স্ত্রী সন্তানকে ঢাকায় ফিরিয়ে নিতে চায় সে। কিন্তু রাবেয়া মিন্টুর সংসার আর করবেনা সাফ জানিয়ে দেয়। এসময় স্বামীকে তালাক দেওয়ার কথা জানায় রাবেয়া। স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে ও ভালোবাসার প্রমাণ দিতে সাগর স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সামনেই ব্লেড দিয়ে নিজের সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে
এব্যাপারে রাবেয়া বেগমের জানান, তার স্বামী একজন নেশা খোর। বিয়ের পর তার স্বামী তাকে দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করার চেষ্টা চালিয়েছে। এতে সে রাজী না হওয়ায় তাকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে সে পালিয়ে বাবার বাড়িতে এসে স্বামীকে ডিভোর্স  লেটার পাঠায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধিন মিন্টু জানান, আমি স্ত্রী ও সন্তানকে অনেক ভালোবাসি। ডিভোর্সের খবর শুনে আমি পাগলের মতো আমার স্ত্রীর কাছে ছুটে আসি। আমি ডিভোর্স মানিনা। আমি আমার স্ত্রী সন্তানকে ফিরিয়ে নিতে চাই। কতটুকু ভালবাসি এর প্রমান দিতেই নিজেকে ক্ষত বিক্ষত করেছি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন