বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ০৩:৫২:০৪ পিএম

ছুটি যেন শেষই হয় না সাকিবের!

খেলাধুলা | শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ | ০১:০২:২১ পিএম

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে ভারতে আইপিএল খেলে দেশে ফিরেন সাকিব আল হাসান। টাইগারদের টি টোয়েন্টি অধিনায়ক দেশে ফিরে বিশ্রামে চলে যান। এ জন্য দলের সঙ্গে ভারতে যাননি সেই সময়। দুদিন পর প্রস্তুতি ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। সেই ম্যাচে হার দিয়ে বড় বিপর্যয়ের সংকেতও পেয়েছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি তাতে। ছুটি যেন শেষই হয় না সাকিবের!

আফগানদের বিপক্ষে প্রথম সিরিজেই হোয়াইটওয়াশের লজ্জা বরণ করতে হয়। এ হারে সাকিবের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দলের সঙ্গে তার সঠিক সময়ে উপস্থিত না থাকাকেও অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা হারের একটি কারণ হিসেবে দেখেন। এরপর ৮ই জুন দেশে ফিরে চলে যান লম্বা ঈদের ছুটিতে। তবে তিনি থাকেননি বাংলাদেশে। চলে গেছেন স্ত্রী কন্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শ্বশুর বাড়িতে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাকিবকে নেতৃত্বে আস্থা রেখেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য টেস্ট দল ঘোষণা করে। নয়া প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের অধীনে ২০শে জুন থেকে অনুশীলন শুরু করে দল। ঈদের ছুটি কাটিয়ে প্রায় সব ক্রিকেটার দেশে ফিরলেও অধিনায়ক ছিলেন না এবারও। কারণ তার ছুটি যেন শেষই হয় না। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিবেন। আজ রাতে বাংলাদেশ দল ক্যারিবীয় মিশনে দেশ ছাড়বে। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে একদিন অবস্থান করে চলে যাবে নিউইয়র্কে। যদিও এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি বিসিবির কর্তারা। মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খানকেও।

সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকেই ছিলেন ইনজুরিতে। তার পরিবর্তে দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার নেতৃত্বেই শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ দল। ফাইনাল ম্যাচে সাকিব অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে দল হেরে যায় আফসোস নিয়ে। সেই সময়ও প্রশ্ন ওঠে তার নেতৃত্ব নিয়ে। এরপর আফগানদের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের লজ্জার পর বিসিবির কার্যনির্বাহী সভাতেও তাকে নিয়ে আলোচনা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় দলের সাবেক এক ক্রিকেটার বলেন, ‘অবশ্যই অধিনায়ককে তার দল নিয়ে আরো বড় ভূমিকা রাখতে হবে। আফগানদের বিপক্ষে হারের পর যখন দল ঘোষণা হয়েছে তখনই তার দলের সঙ্গে যোগ দেয়া উচিত ছিল। আর যদি কেউ বলে তার ছুটি দরকার তাহলে সেতো আইপিএল ছাড়া দেশের হয়ে বড় লম্বা কোনো সিরিজে খেলেইনি। আর সেখান থেকে ফিরে আফগানদের বিপক্ষেও মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেছে। তার উচিত ছিল নতুন কোচের সঙ্গে বসে দল নিয়ে কথা বলা। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলা। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর আমাদের জন্য সহজ হবে না। তার দলনেতা হিসেবে দলের সঙ্গে আরো সময় দেয়া প্রয়োজন বলেই মনে করি।’

অন্যদিকে জাতীয় দলের এক নির্বাচক সাকিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে দলের সঙ্গে যোগ দেয়াকে দোষের কিছু দেখেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওতো লম্বা সময় আইপিএলে খেলার মধ্যে ছিল। কিছুটা হলেও তো বিশ্রাম প্রয়োজন। আর দেশে তো আমরা মাত্র তিন দিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুশীলনের সুযোগ পাবো ৮ দিনের মতো। সেখানেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পারবে সে। তবে যদি সে আরো পরে যোগ দিত তাহলে কথা বলা যেত। এখন আমি মনে করি না খুব বেশি ক্ষতি হবে।’ সাকিবের দুই দফা নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছে ৯ ম্যাচ। সেখানে জয় মাত্র ১ ম্যাচে আর হেরেছে ৮টিতে। অন্যদিকে সারা বিশ্বে টি-টোয়েন্টি লীগে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন হিসেবে সাকিব খেলে বেড়ান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদেরও একজন তিনি। কিন্তু দেশের হয়ে তার নেতৃত্বে ১১ ম্যাচে টি-টোয়েন্টি মাত্র ১ বারই জয় দেখেছে বাংলাদেশ। বলতে গেলে বর্তমানে তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব দিলেও এই দুই ফরমেটেই তিনি দেশকে দেখাতে পারেননি আলোর মুখ। যদিও ওয়ানডেতে ৫০ ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেখানে জয় এসেছে ২৩টিতে। তবে এখনো ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন