বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:০৪:৪৭ এএম

আসুন শিশুর প্রতিভা খুঁজে বের করি

খোলা কলাম | শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ০৫:২৪:৫৫ পিএম

ছবিটি প্রতীকী।

শিশুদের নিয়ে কাজ করতে ভারি মজা ।ওরা বেশ সরল ।ওদের সাথে কাজ করতে করতে এক সময় মনে হয় আমি নিজে সরল হয়ে গেছি ।নিজের মধ্যকার জটিলতাও কমে যাবে যদি শিশুর পাশে শিশুসুলভ মানসিকতা নিয়ে কাজ করা যায় ।

কিন্ত বাংলাদেশের শিশুগুলো বেশ দূর্ভাগা ।মফস্বল বা গ্রামের শিশুদের কথা যদি বাদই দি শুধু রাজধানীর শিশুদের কথাই বলি তবে ওরা আরো দূর্ভাগা ।ওদের ভেতরের শিশুসুলভ টা নষ্ট করে দি আমরা । নানান বড় বড় দায়িত্ব দিয়ে ,বড় বড় কথা বলে শিশুর নিষ্পাপ বিষয়টা দুমড়ে মুচড়ে নষ্ট করে দি । ওদের স্বকীয়তাই আমরা আর রাখি না ।

স্কুলের কথাই বলি না কেন ।টিচারেরা ক্লাস ওয়ার্ক, হোমওয়ার্ক, পরীক্ষার ফলাফল, স্কুলের নিয়ম কানুন নিয়ে বেশি খেয়ালি থাকেন কিন্ত একবারো কি ভেবে দেখেছেন যখন আপনি ছোট্ট শিশুটিকে ধমক দিয়ে লিখতে বলছেন ঠিক সে সময়টায় তার নরম মনটা ভালো নাও থাকতে পারে । কিছু নিয়ে হয়ত তার মন খারাপ। কিংবা আজ হয়ত শরীরটাও ভালো নেই ।
কিছু নিয়ে পাশে বসে থাকা বন্ধু বা বান্ধবীর সাথে মন কষাকষি হয়েছে ।তা নিয়েও সে বিষন্ন । ঠিক সে সময় আপনি যদি তাকে ক আর ষ যোগে ক্ষ হয় এই জটিল যুক্তবর্ন পড়াতে বসেন তবে ভেবে দেখেন শিশু কেন আমাকে বললেও আমি পেছনের দরজা দিয়ে ক্লাস পলায়নের রাস্তা খুঁজব ।

আমরা আজকাল মাল্টিটা‌স্কার করতে চাই শিশুদের ।কারণ আমাদের বেশিরভাগ মায়েদের চিন্তা বাচ্চা বেশ স্লো ।পারলে আজই জন্ম হওয়া বাবুটাকে কালই দৌড় দেয়ানোর যে কি চেষ্টা!

ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানে x theory অনুযায়ী কাজের ক্ষেত্রে কর্মী আপনা আপনি কাজ করতে আগ্রহী হয় y theory তে বলা হয়েছে যতই ঠেলা ঠেলি করেন না কেন কর্মী কাজের প্রতি উদাসীন । আমি একটু যোগ করতে চাই কর্মী তার নিজের মতন করে কাজটি করতে চায়।এখানে ওই কর্মীকে কাজ করাতে ব্যবস্হাপকের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে ।কারন সব কর্মীর কাজ করার potentiality এক না ।কিন্ত আমরা কি করি তাকে সমা লাচনায় ফে্লে দি ।তাকে উৎসাহিত না করে তার ভেতরের প্রতিভা উন্মোচিত না করে তাকে অক্ষম আর অপদার্থ বলে তকমা লাগাই ।

রাজধানী ঢাকার অনেক নামীদামী স্কুলের শিক্ষকরাও এর বাইরে নন ।তারা সব ছাত্র-ছাত্রীদের X type মনে করতে চান । বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধ,গোল্ডনে এ প্লাসদের প্রাধান্য ইত্যাদি দ্বারা তারা একটা স্টান্ডার্ড ছাত্র-ছাত্রীদের লুফে নেন ।ছাত্র-ছাত্রীদের নানান দোষ নিয়ে তারা বিব্রত থাকেন ।প্যারেন্টস মিটিংএ মোটা পাওয়ারের চশমার ফাঁকে অভিভাবকের দিকে তীক্ষ দৃষ্টি দিয়ে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগের হালখাতা নিয়ে বসেন ।
তাদের কি ধারনা সরলমতি শিশুগুলো চিড়িয়াখানার আজব চিড়িয়া ?তারা ক্লাসে কথা বলবে না, মাঠে ছুটবে না, পড়ায় একটু ভূল করবে না, কিংবা দুএকদিন অলসতা করে পড়া ফাঁকি দেবে না?

সবাই কি খুব বিনয়ী হবে?সবার মানদন্ড কি এক হবে?

অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা তো আছেই ।তার ওপর তার ভেতরের প্রতিভা বের করার কোন পদ্ধতি না নিয়ে এগিয়ে বরং তার দোষ,তার ওপর নিষেধ শিশুকে পড়াশোনার ওপর বিরুপ মানসিকতা তৈরি করে ।

শাসন থাকবে কিন্ত তা অত্যাচারে রুপ নিলে শিশুদের ভেতরকার প্রতিভা প্রস্ফুটিত হবে কিভাবে?

রুমানা রশীদ রুমী,
লেখিকা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন