মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ১০:০৮:০৭ এএম

ভাই পাঠাইছে, প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে দেন

জেলার খবর | ময়মনসিংহ | সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১০:৫৯:৩১ এএম

‘ভাইয়ে পাঠাইছে। গত রোজার ঈদের বোনাস দিতে। দেরী কইরেন না। তাহলে প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে দিতে হবে। অন্যথায় খারাপ আছে।’ আজ রবিবার সকালে এই ভাবে কথাগুলি বলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ শাখার চার নেতা। পরে ওই নেতাদের আটকের পর ডিবি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নান্দাইল থানার ওসি বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতরা হচ্ছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজু আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হাসান ওরফে রয়েল, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি টিটু চন্দ্র দে, কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য মো. কামরুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে নান্দাইল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, আজ সকাল ১১টার দিকে ওই চার নেতা তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম ওরফে ফয়সালের বরাত দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি ওই নেতাকে চেনেন না বলে জানান। তাঁর (ওসি) সাথে ওই নেতার কোনো লেনদেন নেই। এই মন্তব্যে ওই চার নেতা ক্ষুদ্ধ হয়ে তার প্রতি নানা ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন।

ওসি আরো বলেন, এ সময় তিনি ফয়সালকে থানায় আসার জন্য ওই নেতাদের বলেন। কিন্তু নেতৃবৃন্দ তাঁদের হাতেই টাকা তুলে দেওয়ার জন্য চাপাচাপি করতে থাকে। পরে ওই চার নেতাকে থানায় বসিয়ে ওসি এ ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একটি সূত্র জানায়, এই ঘটনার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর জেলা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে নান্দাইল থানায় প্রবেশ করে। ডিবি পুলিশের দলটি ওসির কক্ষে আটক ছাত্রলীগের চার নেতাকে কড়া নিরাপত্তায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে দ্রুত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরও আগে চার নেতা আটক হওয়ার খবর শুনে সরকার দলের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কিছু নেতা থানায় প্রবেশ করে আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় নান্দাইল শহরে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়।

এদিকে ওই চার নেতা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে অনেকেই চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নান্দাইল শাখার ঋণ বিষয়ক তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের পরিচয়ে তাঁর মুঠোফোনে বেশ কয়েকদিন ধরে ফোন দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। ফোনদাতারা চাঁদার জন্য আজ ব্যাংকে আসবে বলে হুমকি দিয়েছিল। এ কারণে তিনি আজ ভয়ে ভয়ে ছিলেন।

অন্যদিকে নান্দাইল পৌরসভার পাছপাড়া মহল্লায় সরকারি কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের ভবন নির্মাতা ঠিকাদারের কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও ভয়ে তা প্রত্যাহার করে নেন।

ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ঠিকাদার মো. ফখর উদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পরে তিনি অভিযোগের তদন্ত চাননি বলে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ওই অভিযোগে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নাম ছিল।

তিনি আরো বলেন, আজকের ঘটনায় থানায় প্রবেশ করে চাঁদাবাজি ও পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সুত্র: কালের কণ্ঠ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন