রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:১২:২১ এএম

এরদোগানের বিষয়ে পশ্চিমাদের সাবধানী প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক | সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ০৯:০০:১০ পিএম

আবারো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে রজব তাইয়েব এরদোগান। রোববারের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ের পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এরদোগান ও তার দল একে পার্টিকে। অবশ্য পশ্চিমা দেশগুলো এক্ষেত্রে সাবধানী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। অনেকদিন ধরেই পশ্চিমা বিশ্বের সাথে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে তুরস্কের। ইতিপূর্বে এরদোগানের নির্বাহী ক্ষমতা অর্জনের বিষয়ে গণভোটেও অনেক দেশ বিরোধীতা করেছে। রোববারের নির্বাচনের পর অনেক দেশই কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কেউ বা জানিয়েছে কৌশলী প্রতিক্রিয়া।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ের পর এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এই বিশাল বিজয় প্রমাণ করে এরদোগানের নেতৃত্বে ও জনগণের সমর্থনে তুরস্ক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে কতটা অগ্রগতি লাভ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তুরস্কের অবস্থান জোরদার করেছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে।

ভবিষ্যতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে মস্কো ও আঙ্কারা এক সাথে কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন পুতিন।

আরেক পরাশক্তি চীনও অভিনন্দন জানিয়েছে এরদোগানকে। চীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, তুর্কি জনগণের মতামতকে সম্মান করে চীন। সেই সাথে অভিনন্দন জানায় এরদোগানকে।

মুখপাত্র বলেন, ‘তুরস্কের সাথে সম্পর্ক চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাষ্ট্রনেতার নেতৃত্বে সকল ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা দ্রুত উন্নতি করছে। এর ফলে অনেক ইতিবাচক অর্জনও সম্ভব হয়েছে’।

তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তুরস্কের নির্বাচন ও একে পার্টির বিজয়ের বিষয়ে।

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জার্মানি কৌশলী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এই ইস্যুতে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বার্লিনে চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেলের মুখপাত্র স্টেফেন সেইবার্ট বলেছেন, তুরস্কের নতুন সরকারের সাথে ‘গঠনমূলকভাবে’ কাজ করতে আগ্রহী জার্মানি।

মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল সম্পর্কে অবগত হয়েছি। নতুন সরকারের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। তবে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য এরদোগান বা একে পার্টিকে অভিনন্দন জানায়নি দেশটি।

স্টেফেন সেইবার্ট বলেন, যথোপযুক্ত সময়ে চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে অভিনন্দন জানাবেন।

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ব্রিটেনও একই ধরণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারাও সরাসরি অভিনন্দন জানায়নি এরদোগানকে। লুক্সেমবুর্গ সফরে থাকা ইউরোপ ও আমেরিকা বিষয়ক ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্যার অ্যালান ডানকান বলেন, তুরস্কের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী ব্রিটেন। এই ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, গতকালের নির্বাচনের ফলাফলের পর তুরস্কের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহী এবং আমার ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর যেভাবে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি, একই রকমভাবে কাজ করে যাব।

অবশ্য ব্রিটিশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো অভিনন্দন জানিয়েছে এরদোগানকে। ন্যাটো প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ এরদোগানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার যে ভিত্তির ওপর ন্যাটে গঠিত হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রসঙ্গত ন্যাটো জোটের অন্যতম সদস্য তুরস্ক। জোটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কের কুর্দি নেতার কারবরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সার্বিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন