শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:২০:৫২ এএম

কারাগারে ডিভিশন চেয়ে সাঈদীর রিট শুনানি মুলতবি

আইন আদালত | মঙ্গলবার, ২৬ জুন ২০১৮ | ০৭:০৯:২৮ পিএম

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জেলখানায় ডিভিশন ও যথাযথ চিকিৎসা চেয়ে করা রিটের শুনানি মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার অবশিষ্ট শুনানি হবে। মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে সাঈদীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত রোববার মাওলানা সাঈদী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিটটি দায়ের করেন।

তানভীর আহমেদ আল আমিন বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জেলখানায় ডিভিশন ও যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। গত ৩ মে মাওলানা সাঈদীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেদিন ডাক্তার সাঈদীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেন কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ সে পরামর্শ বাস্তবায়ন করেনি। বাদ্য হয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেন, আমার বাবা ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ডিভিশন-১ প্রাপ্ত বন্দি হিসেবে ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আমার বাবার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলে তার ডিভিশন বাতিল হয় এবং কারাগারে তিনি ফাঁসির আসামির কনডেম সেলে অন্তরীণ থাকেন।

তিনি জানান, এরপর ২০১৩ সালে আমরা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করি। ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ আমার বাবার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের ফলে আমার বাবা জেল কোডের বিধান অনুযায়ী ডিভিশনপ্রাপ্তির অধিকারী হন। জেল কোডের ১৯২ পৃষ্ঠার ১৫ নম্বর অধ্যায়ের ক্লাসিফিকেশন শিরোনামের অধীন ৬১৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর আমার বাবা ডিভিশন পাওয়ার অধিকারী। এসব বিষয় উল্লেখ করে আমরা জেল কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছি আমার বাবাকে ডিভিশন দেয়ার জন্য। মাসুদ সাঈদী বলেন, সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর মঙ্গলবার প্রায় চার বছর হতে চলেছে কিন্তু আমার বাবাকে ডিভিশন দেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন