বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ ১২:৪০:১৪ এএম

তরুণদের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করছে ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক | শনিবার, ৩০ জুন ২০১৮ | ১২:১১:০৩ পিএম

১৬ বছরের তরুণ-তরুণীদের জন্য জাতীয়সেবা কার্যক্রম ফিরিয়ে এনেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ সেবাকার্যক্রম পুনরায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় সেবা কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতেই ষোলো বছরের তরুণ-তরুণীদের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এই সেবাকার্যক্রমে দেশের ১৬ বছর বয়সীদের সংযুক্ত করা হবে। তরুণ-তরুণীদের দুই ধাপে ভাগ করে এই সেবা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে তাদেরকে সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। এটি তাদের মধ্যে সমাজে তাদের ভূমিকা বিষয়ে শিক্ষিত করে তুলবে। এ ছাড়া নতুন সম্পর্ক গঠনে কিভাবে ভূমিকা রাখতে হয়, তাও শিক্ষা দেওয়া হবে এই ধাপে। এটা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

স্বেচ্ছায় শিক্ষাদান ও দাতব্যকাজে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্যই এমন উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন ইমানুয়েল ম্যঁক্রো। এ ছাড়াও তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পুলিশ, সামরিক বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাদের এ প্রশিক্ষণ দেবেন। অনেক রাজনীতিকই এর প্রশংসা করেছেন। তবে অনেকেই এর বিরোধীতাও করেছেন।

দ্বিতীয় ধাপে তাদের তিনমাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ধাপটি ঐচ্ছিক ধরা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে তরুণদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগ।

ইতালির সমালোচনায় ফ্রান্স, সম্পর্ক উত্তপ্ত
রয়টার্স

ইতালি ফ্রান্সের কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। অভিবাসীদের উদ্ধারকারী জাহাজ ইতালির বন্দরে ভিড়তে না দেয়ায় দেশটির সমালোচনা করেছে ফ্রান্স। প্রতিবাদ জানাতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইতালি।

অভিভাবকহীন ১২৩ জন শিশু থাকা অভিবাসীদের উদ্ধারকারী ওই জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে না দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছিলেন, ইতালির আচরণ ‘পাগলামিপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।’

জবাবে ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি বলেছেন, ‘কারো কাছ থেকে আমাদের দানশীলতা, স্বেচ্ছাসেবিতা, উদার হওয়া ও ঐক্যের ধারণা’ শিখতে হবে না।

অভিবাসীবিরোধী অ্যান্টি ইমিগ্র্যান্ট লিগের প্রধান সালভিনি ইতালির সমালোচনা করার জন্য ফ্রান্সকে ক্ষমা প্রার্থনার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে দেশ নিজেদের সীমান্তে নিয়মিত অভিবাসীদের আটক করে, সেই দেশের কাছ থেকে সমালোচনা শুনতে প্রস্তুত নয় ইতালি।
ফ্রান্সের মন্তব্যের পর ইতালির অর্থমন্ত্রী জিওভানি ট্রিয়া ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট জাহাজাটিকেও ইতালীয় বন্দরের আশা বাদ দিয়ে স্পেনের দিকে রওনা হতে হয়েছে।

ইতালির রক্ষণশীল সরকারের সিদ্ধান্তে দেশটির ‘মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের নিয়ে ইতালির বন্দরে নোঙর করতে চাওয়া জাহাজটিকে ভূমধ্যসাগরেই স্থির থাকার আদেশ দিয়েছিল। অ্যাকুরিয়াস নামের জাহাজটিতে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ ছিলেন, যাদের লিবিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতায় ইতালির নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডও অংশ নিয়েছিল। ভিন্ন ভিন্ন উদ্ধার তৎপরতায় উদ্ধারকৃতদের অ্যাকুরিয়াসে তুলে দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইতালির সমালোচনা করেন।

ক্ষুব্ধ ইতালির পাল্টা বক্তব্যের পর বুধবার সুর নরম করে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অ্যাগনেস ভন দের মুল বলেছেন, ‘অভিবাসীদের কারণে যে ইতালির ওপর চাপ পড়ছে তা আমরা বুঝি।’ তারা অভিবাসীদের বিষয়ে ইতালি সরকারকে সহায়তা করারও আশ্বাস দেন। কিন্তু তাতেও ইতালির ক্ষোভ কমেনি। ফ্রান্সের মুখপাত্রের বক্তব্যের পরেও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এনজো মোয়াভেরো বলেছেন, ‘ফরাসি প্রেসিডেন্ট যে মন্তব্য করেছিলেন তা অগ্রহণযোগ্য।’

ওই জাহাজে থাকা মানুষেরা বেশিরভাগই সাব-সাহারান এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনকে উদ্ধার করেছে ইতালির নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বাণিজ্যিক জাহাজ। উদ্ধারকৃতদের ১২৩ জন এমন শিশু যাদের সঙ্গে কোনো অভিভাবক নেই। ১১ জন খুবই ছোট শিশু ও ৭ জন গর্ভবতী নারী রয়েছেন ওই জাহাজে। শিশুগুলোর বেশিরভাগই ইরিত্রিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া ও সুদানের বাসিন্দা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন