বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ ১২:০৬:০৭ এএম

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কঠোর কর্মসূচির বিষয়ে একমত

রাজনীতি | রবিবার, ১ জুলাই ২০১৮ | ১২:২৪:৪২ এএম

আগে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, পরে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একমত পোষণ করেছেন বিএনপি নেতারা। তাই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হবে। এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তও দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

শনিবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। সকাল ১০টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা ৬ ঘণ্টা অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে সবাই একমত হন।

বৈঠকে নেতারা একমত হন, আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। তাই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হবে। আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপরই জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হবে।

দীর্ঘ সময় খোলামেলা আলোচনায় নেতারা একমত হন, খুলনা, গাজীপুরসহ সামনের তিন সিটি নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও গোলযোগের ডকুমেন্টারি তৈরি করা হবে। এগুলো নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রচারণা চালাবেন নেতা-কর্মীরা।

একইভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরবে বিএনপির কূটনৈতিক মিশন। তবে বিএনপির কূটনৈতিক মিশনে পেশাদার নেতৃত্ব জরুরি। জাতীয় নির্বাচনের আগে আবারও কেন্দ্রীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ জেলা সফরের বিষয়েও সবাই একমত হন।

জেলা পর্যায়ের নেতারা থানা পর্যায়ে আর থানা পর্যায়ের নেতারা ইউনিয়ন পর্যায়েও সফর করবেন। তৃণমূল থেকে তুলে আনা সাংগঠনিক রিপোর্ট তৈরি করে তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হবে।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করেন। এতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী , যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, হারুন অর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাহবুবের রহমান শামীম, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, হারুন অর রশীদ, খন্দকার মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, ওরায়েস আলী মামুন, আবদুল আউয়াল খান, মোস্তাক মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ বৈঠকের সামগ্রিক বিষয় নোট করেন।

বৈঠকে সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের এক নেতা বলেন, “গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরে কেন প্রতিবাদ করা হলো না। গণমাধ্যম বলছে, ‘এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কেন এলাকায় জোরোলা প্রতিবাদ করা হলো না।’ গাজীপুরে এত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলো কিন্তু কোন কারণে সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা নেই। নির্বাচনের দিন থেকে তিনি এখনো নীরব কেন? বৈঠকেই বা আসলেন না কেন? ওই নির্বাচনের পরদিন ধানের শীষের প্রার্থী কেন পুলিশের ডিসির সঙ্গে দেখা করতে যান।”

ওই নেতা আরও বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন কারাগারে অসুস্থ। তার অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। আর কত সময় নেওয়া হবে কঠোর কর্মসূচির। আর দেরি করা উচিত হবে না।’

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের আরেক নেতা বলেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক মিশন খুবই দুর্বল মনে হচ্ছে। বিএনপির মতো দলে এখন শমসের মবিনের মতো পেশাদার কূটনীতিকের খুবই অভাব। ভারতে সেই দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমনটা না হয়, সে ব্যাপারে নজর দেওয়া জরুরি।’

যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভাগীয় পর্যায়ে সফর করে সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখভাল করা উচিত। একইভাবে বিভাগীয় নেতারা জেলা পর্যায়ে, জেলার নেতারা থানা পর্যায়ে এবং থানা পর্যায়ের নেতারা ওয়ার্ড পর্যায়ে সফর করে সাংগঠনিক রিপোর্ট করে কেন্দ্রে জমা দেওয়া উচিত। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা কমিটি গঠনে তৃণমূল নেতাদের মতামত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে যেন এ বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।’

আরেক নেতা মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রতিটি বৈঠকেরই ফলোআপ নিয়মিত করা উচিত। কয়েকদিন অন্তর অন্তর এমন বৈঠক হওয়াও জরুরি। বিশেষ করে স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক-সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়মিত বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

সহ-সাংগঠনিক পর্যায়ের এক নেতা জানান, বিগত দুই সিটি নির্বাচনে দলের কোনো কোনো নেতার দুর্বলতা আছে কি না তা কেন্দ্রকে জানা উচিত। এ জন্য দলীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

একই পর্যায়ের আরেক নেতা বলেন, “সিনিয়র নেতারা বলছেন, ‘জাতীয় ঐক্য করে বৃহত্তর কর্মসূচি।’ জাতীয় ঐক্যে কারা আসছেন, তারা কী চান, এসব বিষয়ও স্পষ্ট করতে হবে। সম্ভব হলে জাতীয় ঐক্য করে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।”

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন