বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ ০১:১৫:৩০ পিএম

মাঠের বাইরেও জবাব দিলেন নেইমার

খেলাধুলা | মঙ্গলবার, ৩ জুলাই ২০১৮ | ১১:৩৬:০৪ পিএম

ঘড়ির কাঁটায় পৌনে ৮টা। তাতে কী! বিকেলের সূর্যের রং তখনো খেলা করছে সামারার আকাশে। যেন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায় রক্তজবার লালিমায় অভিনন্দন জানিয়ে যায় ব্রাজিলকে।

সেই সূর্য ডুবে যায় একসময়। সময়ের ঘড়িতে পেরোয় সেকেন্ড-মিনিট-ঘণ্টা। এরপর মিক্সড জোনে অপেক্ষা সেই মহানায়কের জন্য। মেক্সিকোকে হারানোয় জাদুকরী এক মুভে নিজে গোল করা এবং সতীর্থকে দিয়ে আরেক গোল করানো নেইমারের জন্য। রাত সন্ধ্যা ১০টা ২৫ মিনিটে মিক্সড জোনে ঢোকেন তিনি আলিসন, রেনাতো অগুস্তো ও পাউলিনিয়োকে নিয়ে। ঘাড়ে আটকানো হেডফোন, হাতে লাল রঙের প্যাকেট নিয়ে। কিন্তু দাঁড়ালেন না। সতীর্থদের সঙ্গে হাসতে হাসতেই মিক্সড জোন থেকে বেরিয়ে যান নেইমার।

এর আগে ম্যাচ শেষের পরপরই অবশ্য কথা বলেছেন। জার্সি খুলে খালি গায়ে। তাতে ব্রাজিল দলের সবাইকে অভিনন্দন এই ম্যান অব দ্য ম্যাচের, ‘আমি ব্রাজিল দলের সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। মেক্সিকোর মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন সময় তো আসবেই। কিন্তু আমরা তা সামলে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছি। আমাদের রক্ষণভাগ যে খুব শক্তিশালী, তা জানি। আর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের তো গোল করার দায় থাকেই।’ সে দায় কাল ভালোভাবেই মিটিয়েছেন নেইমার।

তবু ম্যাচশেষে তাঁকে নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি অনেক সমালোচনাও। কারণ দ্বিতীয়ার্ধের ওই ঘটনা। খেলার বাইরে মেক্সিকোর মিগেল লায়ুন টাচলাইনের ওপাড়ে নেইমারের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন প্রায়। ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন, অথচ এটিকে ‘অভিনয়’ হিসেবে নিয়ে মেক্সিকানরা চড়াও হয় নেইমারের ওপর। ম্যাচ শেষে পরাজিত দলের কোচ হুয়ান কার্লোস ওসোরিও তো রেফারি ও নেইমারকে ধুয়ে দিয়েছেন একেবারে, ‘ওদের ফরোয়ার্ডরা সব সময়ই আমাদের সঙ্গে গা লাগিয়ে পড়ে গিয়ে ফাউল আদায় করতে চেয়েছে। আর সেটিই হয়েছে। রেফারিং ব্রাজিলের পক্ষে গেছে। একজন ফুটবলারের জন্য আমাদের খেলা বারবার থেমে গেছে। এটি ফুটবলের জন্য লজ্জা। এটি শক্তিশালীদের খেলা, পুরুষের খেলা, এখানে এত অভিনয় হওয়া উচিত না।’

নেইমার অবশ্য ম্যাচ শেষেই জবাব দিয়েছেন ‘মেক্সিকানরা অনেক বেশি কথা বলেছে। এখন তো বাড়ি চলে যাচ্ছে’—এমনটা বলে। আর খেলার বাইরে অমন ফাউলের শিকার হওয়াটাকে মেনে নিতে পারছেন না, ‘এটি খুব অন্যায়। বল তখন খেলার মধ্যে নেই আর আমরাও মাঠের বাইরে।’ আর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দুটি প্রশ্নের মধ্যে একটির দীর্ঘ উত্তর এ ঘটনা নিয়েই, ‘আমার মনে হয়, এটি আমাকে খাটো করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। আমি সমালোচনা পরোয়া করি না। এমনকি প্রশংসায়ও ভেসে যাই না। কেননা সেটি আমার পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে। গত দুই ম্যাচে আমি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলিনি, কারণ অনেকে অনেক কিছু বলছিল। বেশি উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিল। তারা নিজেদের জাহির করতে চাইছিল কি না, আমি জানি না। আমি শুধু জানি, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আমি এখানে জিততে এসেছি।’

পাশে বসা ব্রাজিলের কোচ আদেনর বাক্কি তিতে এ নিয়ে বেশি কথা বলতে চাননি, ‘আমি দেখেছি কী হয়েছে। আপনারাও ভিডিওটি দেখুন। তখন আর নেইমারের বিপক্ষে কিছু বলার থাকবে না।’ প্রতিপক্ষ কোচের কথাকেও ‘মুহূর্তের উত্তেজনায় বলা’ হিসেবে দেখছেন। আর বিশ্বকাপে নেইমার আবেগীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও উন্নতি করছেন বলে দাবি তাঁর, ‘এসব নিয়ে শক্তিক্ষয় করার মানে নেই। ওকে বলেছি, রেফারিং নিয়ে, অন্য দলের কোচ নিয়ে কথাবার্তা বলব আমরা। ওর কাজ খেলা। ও সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। হ্যাঁ, নেইমার অবশ্যই নিজের আবেগ সামলানোর দৃষ্টিকোণ থেকেও উন্নতি করছে।’

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটিকেও দুর্দান্ত হিসেবে রায় দিয়েছেন তিতে। এখানে জয়ের জন্য দ্বিতীয়ার্ধে ৪-৩-৩ থেকে ফর্মেশন বদলে ৪-৪-২ করার কারণও বলেছেন তিনি, ‘প্রথমার্ধের বিশ্লেষণ করার পর মনে হয়েছে আমরা দ্বিতীয়ার্থে ফর্মেশন বদলাব। মিডফিল্ডাররা তখন উইঙ্গারের মতো খেলবে। আর ম্যাচটি দারুণ হয়েছে। দুই দলই অনেক সুযোগ পেয়েছে। এমন ম্যাচ জেতায় আমি এবং আমরা সবাই আনন্দিত।’

তবে আনন্দিত হলেও নিজেদের বিশ্বকাপ জয়ের ‘ফেভারিট’ এখনো ভাবছেন না তিতে! শুধু শুধু বাড়তি চাপ নেবার দরকার কী! নেইমারের ওপর থেকেই তো চাপ কমাতে চাইছেন!

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন