বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:০৭:২২ এএম

ছাত্রলীগের হাতুড়ি পেটায় আহত তরিকুলকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা নেয়ার সুযোগ দেয়া হলো না

শিক্ষাঙ্গন | শুক্রবার, ৬ জুলাই ২০১৮ | ০৩:২৮:০০ পিএম

তরিকুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। বাড়ি গাইবান্ধায়। তরিকুলরা দুই ভাই ও এক বোন। তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তরিকুল। গত সোমবার (২ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মক আহত হন তিনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তরিকুলের ডান পা ভেঙে গেছে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। আট-নয়টি সেলাই পড়েছে মাথায়। নৃশংস হামলায় সারা শরীরে ত নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারছেন না তিনি। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে বেশ সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু রামেকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা নেয়ার সুযোগটুকুও তাকে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, জোর করেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে আহত তরিকুলের বোন ফাতেমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমরা বারবার বলেছি, তরিকুলের অবস্থা ভালো নয়। এখনো মারাত্মক অসুস্থ। পুরোপুরি সুস্থ হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু কেউই কোনো কথা শুনেননি। হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে, এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। দুই সপ্তাহ পরে এসে দেখা করবেন। তারা ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নগরীর রয়্যাল হাসপাতালে ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে।

গতকাল বিকেলে দেখা গেছে, তরিকুলকে নগরীর রয়্যাল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে। হামলায় ক্ষতবিক্ষত তরিকুল মানসিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনসহ সহপাঠী ও বন্ধুরা তার পাশে রয়েছেন।
তবে তরিকুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। পুলিশ সক্রিয় হলে হয়তো তাকে এই কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে হতো না। আর ছাত্রলীগের হামলাকারী নেতাকর্মীদের বারবার অনুরোধ ও কাকুতি-মিনতি করলেও তারা কর্ণপাত করেনি। তারা নির্দয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যে যা দিয়ে পেরেছে পিটিয়েছে। তিনি বলেন, একপর্যায়ে বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।

কোটা সংস্কারের দাবিতে বিােভ কর্মসূচিকালে গত সোমবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে রাস্তায় নির্দয়ভাবে তরিকুলকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সোমবার কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণে চাপাতি হাতে ছাত্রলীগ কর্মী লতিফুল কবির মানিককে। হাতুড়ি হাতে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনকে। বিভিন্ন ছবিতে বাঁশের লাঠি হাতে সবার সমানে ছিল সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান মিশু। বিভিন্ন ছবিতে তরিকুলকে মারধরে তাদের আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

এরা ছাড়াও আক্রমণে মূল ভূমিকায় আরো ছিলেনÑ রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি গোফরান গাজী, মিজানুর রহমান সিনহা, রমিজুল ইসলাম রিমু, সাদ্দাম হোসেন, আহমেদ সজীব, ছানোয়ার হোসেন সারোয়ার, আরিফ বিন জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুল জামিল সুষ্ময়, হাসান লাবন, ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব, কর্মী জন স্মিথ ও রাশেদ খান। পরে পুলিশ ও সাংবাদিক মিলে তাকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। তরিকুল কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরণ পরিষদের রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক।

এ দিকে তরিকুলের অবস্থা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান এম এ কে শামসুদ্দিন বলেন, তার অবস্থা একটু ভালো। তিন সপ্তাহ পরে আসতে তাকে বলা হয়েছে। তবে তরিকুলকে জোর করে ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি বাইরে আছি। এ সম্পর্কে তিনি অপর একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

তবে হাসপাতালের একটি সূত্র তরিকুলকে জোর করে ছাড়পত্র ধরিয়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারো কোনো গাফিলতি নেই।

-নয়াদিগন্ত।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন