শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:৫৪:৩৯ এএম

৩০০ আসনে প্রার্থী নিয়ে করা প্রতিবেদনটি হাস্যকর

রাজনীতি | শুক্রবার, ৬ জুলাই ২০১৮ | ০৫:০৪:১৮ পিএম

গত ৫ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘তারেকের টেবিলে বিএনপি’র ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে, প্রতিবেদনটি শুধু হাস্যকরই নয়, এটি সরকারের মিথ্যা প্রপাগান্ডার এক উদ্বেগজনক সংযোজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, বিশেষ সংস্থার নির্দেশেই প্রতিবেদনটি তৈরী ও প্রকাশ করা হয়েছে। সারাদেশের মানুষ যখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে সোচ্চার তখন জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য আওয়ামী সরকারের নির্দেশে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সরকার সবদিক থেকে যে মূহুর্তে ব্যর্থতার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে ঠিক সেই মূহুর্তে এই বানোয়াট সংবাদটি প্রচার করা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পত্রিকাটি কোন টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূদুর লন্ডনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের টেবিলে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকার সন্ধান পেয়েছে ? নতুন আবিস্কৃত দুরবীক্ষণ যন্ত্রটির নাম জনসমক্ষে জানালে প্রখ্যাত জ্যেতির্বিজ্ঞানী হাভেল এর নামের সাথে পত্রিকাটির প্রতিবেদকদের নামও মহাবিজ্ঞানী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে এবং বহু আন্তর্জাতিক খ্যাতিও মিলবে।

উক্ত প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্টরা শুধু জ্যেতির্বিজ্ঞানীই নন, সিদ্ধ পূরুষও বটে। কারণ তারা মন্ত্রবলে মৃত মানুষকেও জীবিত করতে পারেন। উক্ত প্রতিবেদনে কয়েক বছর আগে বিএনপি’র মৃত কয়েকজন সাবেক সাংসদদের নামও আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সদ্য প্রয়াত জয়পুরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধান, কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মরহুম খোরশেদ আলম, চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর হায়দার খান, রাজশাহী-৬ আসনে মরহুম আজিজুর রহমান প্রমূখ। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রতিনিয়তই দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখছেন। তাঁর টেবিলে ৩০০ প্রার্থীর নামের তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম আসলো কিভাবে ? সুতরাং প্রতিবেদনটি আগাগোড়াই মনগড়া ও কাল্পনিক এবং বিএনপি’র বিরুদ্ধে সরকার ও তাদের এজেন্সীগুলোর ধারাবাহিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের নীলনকশায় আরেকটি সংযোজন।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে সপাটে আবারও জানিয়ে দিতে চাই-দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির আন্দোলন দিনের পর দিন আরও বেগবান করতে দলের নেতাকর্মীরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আন্দোলনই এখন বিএনপি’র একমাত্র কর্মসূচি। এই কর্মসূচি বাদ দিয়ে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র প্রার্থী তালিকার প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণরুপে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। এটি সরকারের নোংরা কুটকৌশল।

“চলতি বছরের শেষের দিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি তো অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচনকে লোহার সিন্দুকে আটকিয়ে রেখেছেন। আর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে তো আপনি পুলিশের রাইফেলের নলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আপনার অধীনে জাতীয় নির্বাচন আর নেকড়ের অধীনে নিরীহ প্রাণীর নিরাপত্তা সমান কথা। বর্তমানে দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। আর বিএনপি চেয়ারপারসনকে ছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিবে না। প্রধানমন্ত্রী মনে হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন বলতে খুলনা-গাজীপুর মার্কা নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন। যে নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহৌৎসব চলে, কেন্দ্রে শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডাররা থাকে, অন্য কোন দলের এজেন্টকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে বা তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বা পিটিয়ে রক্তাক্ত করে বের করে দেওয়া হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন