মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৭:০২:০১ এএম

শিশু রাইফার মৃত্যু : চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ

জেলার খবর | চট্টগ্রাম | শুক্রবার, ৬ জুলাই ২০১৮ | ০৬:৩২:৫৬ পিএম

চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু রাইফা খানের মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি অভিযুক্ত তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ চার দফা সুপারিশ করেন।

অপর তিন সুপারিশ সমূহের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালটির সার্বিক ক্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্রুত সংশোধন করা, কর্তব্যরত নার্সরা সরকারি নিয়মে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী থাকার নিয়ম থাকলেও হাসপাতালের নার্সরা তা ছিল না ফলে ডিপ্লোমাধারী নার্স দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করা ও অভিভাবকদেরকে যথা সময়ে রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা।

গত ২৯ মে ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ২ বছর ৪ মাস বয়সী শিশু রাইফা। চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির অপর দুই সদস্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ। কমিটিকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটির রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ প্রয়োগ যথাযথ থাকলেও অভিযুক্ত তিন চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশিষ সেন গুপ্ত ও ডা.শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতাকালীন কর্তব্যে অবহেলা করেছেন।

রাইফার যখন খিঁচুনি হয় তখন তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার মতো অভিজ্ঞতা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ছিল না। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও ত্রুটি নিয়ে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ১৫০ শয্যার এ হাসপাতালে লাইসেন্স নবায়নে ত্রুটি, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোনো নিয়োগপত্র না থাকা, প্যাথলজি বিভাগ ও চিকিৎসকের কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন ২ জুলাই হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ প্রতিবেদন পাঠান। আগামী ১৫ দিনের মধ্য এসব অনিয়মের পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকলে এ হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গলার ব্যথাজনিত কারণে নগরীর মেহেদীবাগ ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তির পর গত ২৯ জুন রাতে মারা যায় শিশুকন্যা রাইফা খান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন