সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ১১:০৯:২১ পিএম

আগামী নির্বাচন কঠিন হবে: বর্ধিত সভায় শেখ হাসিনা

জাতীয় | রবিবার, ৮ জুলাই ২০১৮ | ১২:১৪:১৫ এএম

আগামী জাতীয় নির্বাচন কঠিন হবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতাদের বলেছেন, ‘এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে। আমাদের সংগঠনকে গড়ে তুলতে হবে। যে দ্বন্দ্ব সঙ্ঘাত রয়েছে, তা ভুলে যেতে হবে। কোনো আসন যেন দ্বন্দ্ব বা অবহেলার কারণে হারাতে না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে।’
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল শনিবার দলের ধারাবাহিক বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভবনে এই সভায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা এবং রংপুর বিভাগের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন পরিষদে দলের জনপ্রতিনিধিরা যোগ দেন।

আগামী নির্বাচনে জিততে না পারলে দেশের ক্ষতি হবে সতর্ক করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমরা যদি জয়ী না হই তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার আমরা শুরু করেছি, সেই বিচার বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষের ওপর আবার আক্রমণ আসবে। আবার বাংলাদেশকে তারা আতঙ্কিত করবে।’

আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই নির্বাচনেও মানুষ যেন নৌকা মার্কায় ভোট দেয়, তার জন্য জনগণের কাছে আপনাদের আবেদন করতে হবে। সে আবেদন আপনারা করবেন, সেটি আমরা চাই।’

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সব দ্বন্দ্ব আর অনৈক্য ঝেড়ে ফেলে একজোট হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে, তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকলে একটা ধারণা হয়ে যায়, সবগুলো তো জিতব, এই একটা না জিতলে আর কী হবে? ২০০১-এ কিন্তু এই চিন্তা ছিল। এবার যেন এর পুনরাবৃত্তি না হয়। মনে রাখতে হবে একটা সিট হারানো মানে ক্ষমতা দখল আমরা করতে পারব না। এই কথাটা মনে রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের কথাগুলো জনগণকে বলতে হবে এবং দলকে সুসংগঠিত করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাথে সাথে অন্যান্য সহযোগী সংগঠনকেও শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ-প্রত্যেকটা সংগঠন যেন সুসংগঠিত হয় এবং নিয়ম মেনে চলে, ডিসিপ্লিন মেনে চলে। সে বিষয়টাতে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগের আবারো ক্ষমতায় থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে, আবার তারা দারিদ্র্যের হার বাড়াবে। আজকে শিক্ষার হার বেড়েছে, সেটিও তারা কমিয়ে দেবে, সামাজিক নিরাপত্তার কাজ বন্ধ করে দেবে, রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজগুলো বন্ধ করে দেবে। অতীতে তাই করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে। যেহেতু আমরা জোট করেছিলাম অবশ্যই জোট বজায় রাখতে হবে। সবাই যেন আমাদের বিরুদ্ধে চলে না যায়, তার জন্য। আমরা নমিনেশন দেবো, নমিনেশন দেয়ার সময় অবশ্যই তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দেই। কিন্তু তার পরেও আমি সার্ভে করি। এরই মধ্যে তিন দফা সার্ভে আমার হয়ে গেছে। সেই সার্ভের ভিত্তিতে যাকে নমিনেশন দেবো, যাকেই নৌকা মার্কা দেবো, তার পক্ষেই একযোগে কাজ করতে হবে যেন নৌকা না হারে।’

বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির নানা পরিসংখ্যান বিশেষ করে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সামাজিক কর্মসূচিগুলোর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এই কর্মসূচির সুবিধা যেন সঠিক লোকেরা পায়, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি যেন ঠিকঠাকভাবে চলে, সে জন্য নজরদারি করতেও তৃণমূলের নেতাদের নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি।

পাশাপাশি এসব উন্নয়নের বিষয়টি জনগণকে বারবার জানিয়ে তাদের ভোট চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের শক্তিই হচ্ছে জনগণ। জনগণকে নিয়েই আমরা রাজনীতি করি, জনগণের কল্যাণের জন্যই আমরা রাজনীতি করি। এই কথাটা সাধারণ মানুষের কাছে আপনাদের তুলে ধরতে হবে। বলতে হবে, আমরা আপনাদের কাছে ভোট চাই, আপনাদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই।’

‘আমরা যে উন্নয়নগুলো করেছি, মানুষকে বারবার না বললে মানুষ সেটি মনে রাখে না। তাই জনগণের কাছে আপনাদের যেতে হবে এবং এই কথাগুলো বারবার মানুষকে বলতে হবে। যে আমরা এই কাজগুলো করেছি, ভবিষ্যতে আরো করব।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আজ বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটা পরিবার যেন সচ্ছল হয়, প্রত্যেকটা গ্রাম যেন উন্নত হয়, আমরা সে পদক্ষেপ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই গ্রামের মানুষ সুখের মুখ দেখছে, দুটো পয়সা কামাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা পাচ্ছে, হাতে হাতে মোবাইল পাচ্ছে, সুন্দর করে জীবনযাপন করার সুযোগ পাচ্ছে, বাড়ি পাচ্ছে, রাস্তা পাচ্ছে, সব কিছু পাচ্ছে।’

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান শাসনামলে শাসনতন্ত্রে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি আদায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মতো বিষয়গুলো নৌকায় ভোট দেয়াতেই সম্ভব হয়েছিল- এটিও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ করা মানে শুধু নিজের ভাগ্য গড়া নয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা বিএনপি-জামায়াতের কাজ। দুর্নীতি, লুটপাট, হত্যা করা, এটিই তো তাদের কাজ? নইলে কেউ এতিমের টাকা চুরি করে খেতে পারে?’

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির আরো মামলা থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু তিনি হাজিরা দেন না। হাজিরা দিলেই ধরা খাবে। তিনি নাকি অসুস্থ। হ্যাঁ, ক্ষমতায় থাকতে আমেরিকায় গিয়ে, সৌদি আরব গিয়ে চিকিৎসা করেছেন, দেখেছি। কিন্তু হাজিরা দিতে পারবেন না, এতটা অসুস্থ তিনি নন।’

১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার ৪৭টি রিপোর্টের ফাইল থেকে ১৪ খণ্ডে বই প্রকাশ করার কাজ চলছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে করা গোয়েন্দা সংস্থার ৪৭টি ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ফাইলগুলোর তথ্যাবলী বই আকারে প্রকাশ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র একজন নেতার বিরুদ্ধে ৪৭টি ফাইল হয়েছে। এই ফাইলগুলো রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এসবি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার পাতার এই ফাইলগুলো ১৪টি ভলিউমে প্রকাশ করা হবে।’

ফাইলগুলোর তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে তিনি আরো জানান, ‘এগুলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথি তা হওয়ায় অবমুক্ত করার আইন রয়েছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অবমুক্ত করার অনুমতি নেয়া হয়েছে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীদের যেসব চিঠি লিখেছেন সেগুলোও আছে এসব ফাইলে। এগুলো প্রকাশ করা হলে বহু তথ্য জানা যাবে। এগুলো প্রকাশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস সব জানা যাবে। এগুলো আওয়ামী লীগের জন্য, জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস।’

এর আগে গত ২৩ জুন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের এবং ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ইউনিয়নের নেতাদের সাথে সভা করেন দলীয় সভাপতি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন