সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ১১:০৫:৩৫ পিএম

চলচ্চিত্রের ডাবিং কী? কারা করেন?

বিনোদন | মঙ্গলবার, ১০ জুলাই ২০১৮ | ০১:২০:১৭ পিএম

ডাবিং বলতে কী? আজকাল শুধু চলচ্চিত্র কিংবা বিজ্ঞাপনচিত্রই নয়। ডাবিং হচ্ছে নাটকেরও। তবে ডাবিং বলতে সাধারনভাবে আমরা বুঝি, অভিনয়শিল্পীর সংলাপ সংযুক্ত করা। শুধু সংলাপ যোগ করাটাই ডাবিং নয়। ধারণ করা চিত্রের সঙ্গে শব্দ যোগ করার পুরো প্রক্রিয়াই হলো ডাবিং। একটা কথা মনে রাখতে হবে, চিত্রের সঙ্গে যথাযথভাবে শব্দ যোগ না করতে পারলে ডাবিং হয় না।

পর্দায় যে সাপটা চলে। চলার পথে সে যে শব্দ করে। সেই শব্দটাও দর্শকের কানে লাগানোর নাম ডাবিং। সব সময় এই সব শব্দ বাস্তবে ধারণ করা সম্ভব হয় না। বিশ্বের প্রায় সব চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে এই শব্দ কৃত্রিমভাবে তৈরীর জন্য শিল্পগোষ্ঠী আছে। সাপ-ব্যাঙ, গরু-ছাগল থেকে শুরু করে বাতাসের শব্দ পর্যন্ত তাঁরা মুখ দিয়ে বের করেন। তবে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয় স্টক সাউন্ড। ইন্টারনেটের যুগে এটা পাওয়া তো সাধারন ব্যপার। তবুও তাদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। কৌশিক গাঙ্গুলী তার ‘শব্দ’ সিনেমায় ব্যপারটি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

মজার ব্যাপার হলো, ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রায় নতুন নায়িকার কন্ঠই অন্যরা দিয়েছেন। অনেকেই হয়তো জানে না-শাবনাজ, শাবনূর, পপিদের প্রথম দিককার ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আফসানা মিমি, তারিন ও ঈশিতার মতো টিভি অভিনেত্রীরা। বলিউডের ক্যাটরিনা কাইফ, রানী মুখার্জি, প্রিয়াংকা চোপড়ারাও একটা সময়ে ডাবিং শিল্পী নিয়েছেন। আমাদের দেশের ডাবিং শিল্পীদের এখন ব্যস্ত সময় পার করতে হয় অ্যনিমেশন ও বিদেশি সিরিয়াল ডাবিং করে।

কয়েকজন ডাবিং শিল্পীর পরিচয় দেয়া হল:

তনিমা আহমেদ

অভিনয়শিল্পী শর্মিলী আহমেদের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে আছে। তবে তিনি সফল ডাবিংয়ে। তনিমা ডাবিং করেছেন রচনা ব্যানার্জি, ঋতুপর্ণা, অপু বিশ্বাসসহ হালের আরও অনেক নায়িকার। মুনমুন, ময়ূরী, কেয়া, শিমলা, বর্ষাসহ একাধিক নায়িকার কণ্ঠ দেন তিনি। অপু বিশ্বাসের প্রথম ছবি কোটি টাকার কাবিন থেকে শুরু করে অপু অভিনীত প্রায় ৬০টি ছবিতেই এই নায়িকার কণ্ঠ দিয়েছেন তনিমা। এমনকি সবশেষ ‘রাজনীতি’ ছবিতেও অপুর মুখে শোনা যাবে তনিমার বলা সংলাপ।

শেখ ডেভিড

খলনায়ক রাজিবসহ অনেক প্রখ্যাত শিল্পীর জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। বলিউড অভিনেতা শক্তি কাপুর ঢাকার দুটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার কণ্ঠ দিয়েছেন ডেভিড। ডাবিংয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও কাহিনী এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কুড়িয়েছেন খ্যাতি। এ বছর তিনি মারা যান।

সাইমন তারিক

পরিচালনার পাশাপাশি তিনি ডাবিংও করে থাকেন। তিনি মূলত খলচরিত্রের অভিনেতাদের সংলাপ ডাবিং করেন।

মেরিনা আফরোজ

শিশুশিল্পীদের কন্ঠ দিয়েছেন সেই পাঁচ বছর বয়সে। এরপর বড় হয়ে নায়িকা রত্না, তমা মির্জাসহ একাধিক নতুন নায়িকার কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

আনোয়ার শাহী

ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম অভিনীত প্রতিটি ছবিতে তার জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন আনোয়ার। খল অভিনেতা রাজীব, নাসির খান, কৌতুক অভিনেতা দিলদারের মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া ছবিগুলোতে কন্ঠ দিয়েছেন। পিস ও ইসলামিক টিভিতে ড. জাকির নায়েকের বাংলা কন্ঠ আনোয়ারের করা ছিল।

ইভান সাইর

রেডিও জকি হিসেবে পরিচিতি রয়েছে ইভানের। অভিনয়েও মাঝেমধ্যে দেখা যায়। নায়ক বাপ্পীর যে কণ্ঠ দর্শক সিনেমায় শুনতে পান তার বেশির ভাগই ইভানের। বিজ্ঞাপনেও কন্ঠ দিয়েছেন ইভান।

শতাব্দী ওয়াদুদ

হুইলের বিজ্ঞাপনে সালমান খানের ঠোঁটে শোনা যায় শতাব্দী ওয়াদুদের কন্ঠ। বিজ্ঞাপনের পাশপাশি বিদেশী সিরিয়ালেও কন্ঠ দেন।

শর্মীমালা

অভিনয়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তবে অপু বিশ্বাসের ছয়টি সিনেমার ডাবিংও শর্মীমালা করেছেন। নাট্যাভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত ভয়েস দেন।

ফিরোজ আলম

শাকিব খানের প্রথম ছবি ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’ থেকে শুরু করে ‘আজকের দাপট’ পর্যন্ত তার ১৭ টি সিনেমায় কন্ঠ দিয়েছেন। আরও অনেক শিল্পীর জন্যই তিনি কন্ঠ দিয়েছেন।

ডাবিং শিল্পীর গুনাবলী:

শর্মীমালা বলেন, ‘পালাকার দলের প্রধান আমিনুর রহমান মুকুল ভাই প্রথমে সামাজিক সচেতনতামূলক একটি বিজ্ঞাপনের জন্য ডেকেছিলেন। তিনিই আমাকে সিনেমায় কণ্ঠ দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। এভাবেই প্রথম ভয়েস দেওয়া শুরু। এটাও একটা আর্ট। রপ্ত করতে হয়।

তনিমা বলেন, ‘পর্দার সামনে বসে নায়িকার অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন দেখেই কণ্ঠের ভিন্নতা চলে আসে। মনে হয় আমিই অভিনয় করছি। প্রথমদিকে কষ্ট হলেও এখনতো উপভোগই করছি।-বাংলা ইনসাইডার

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন