শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ১২:৪৬:২১ পিএম

‘আন্দোলন দমাতে প্রথমে পুলিশ পরে ছাত্রলীগ নামানো হয়েছে’

খোলা কলাম | সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ০৮:৫৯:৩০ পিএম

শান্তিপূর্ণ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে উত্তাল ছাত্র আন্দোলনে বদলে দেয়ার দায় অনেকটাই পুলিশ আর ছাত্রলীগের। এপ্রিল মাসে পুলিশ আন্দোলনের সলতেতে প্রথম আগুন দিয়েছে আর জুলাইয়ে ছাত্রলীগ সে আগুনে ঘি ঢেলেছে। আমার ধারণা, পুলিশ যদি ৮ এপ্রিল আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা না চালাতো তাহলেই পানি এতদূর গড়াতো না।

কথাগুলো নিজের ফেসবুকে লিখেছেন সাংবাদিক প্রভাস আমিন।

তিনি আরো লিখেছেন, আমি আন্দোলনের সমর্থক না হতে পারি। কিন্তু তাদের দাবি জানানোর, সেই দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তাদের সেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে আমার অবস্থান। যারা ভিসির বাসায় নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের বিচার হতেই হবে। কিন্তু আন্দোলন করার কারণে তুলে নেয়া, গ্রেপ্তার রিমান্ড, হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আন্দোলন করা কখনোই অপরাধ নয়। এপ্রিলে আন্দোলন দমনে সরকার পুলিশকে মাঠে নামিয়েছে আর এবার মাঠে নামিয়েছে ছাত্রলীগকে। ছাত্রলীগ ঢাকা, রাজশাহী, হাতুরি নিয়ে, লাঠি নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ শুধু আন্দোলনকারীদের পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, শিক্ষকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগের হুমকির মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ক্যাম্পাসে আসতে পারছে না।

আন্দোলনের পক্ষে ফেসবুকে লেখালেখির অপরাধে চট্টগ্রাম ভেটেরেনারি ইনস্টিউট থেকে এক ছাত্রকে বহিস্কার করা হয়েছে। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, কোটা সংস্কারের পক্ষে বলাই এখন বাংলাদেশে অপরাধ। বললেই জামায়াত-শিবির ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমার কাছে আন্দোলনটিকে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে বটে, কিন্তু আমার মনে হওয়াই তো শেষ কথা নয়। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবেই। যারা আন্দোলন করছেন বা আন্দোলনের পক্ষে বলছেন; তাদের কাছে নিশ্চয়ই দাবিটা যৌক্তিক মনে হচ্ছে। পিটিয়ে যে আন্দোলন দমন করা যায় না, এটা ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালো করে আর কে জানে।

হামলা করে হয়তো আন্দোলনের আগুনে ছাইচাপা দেয়া যাবে, নেভানো যাবে না। বরং বারবার হামলা করে আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আরো বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি বলছি না, আন্দোলনের মুখে তাদের অন্যায় দাবি মেনে নিতে হবে। বরং প্রধানমন্ত্রী যখন অনেকটা অভিমান করে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখনও আমি এর প্রতিবাদ করেছি। জোরালো আন্দোলন হলেই অন্যায্য দাবি ন্যায্য হয়ে যায় না। বরং আমি দাবি করছি, কোটায় লোক পাওয়া না গেলে সাধারণ তালিকা থেকে লোক নেয়া হবে, এই শর্তে ৫৫ ভাগ কোটাই বহাল থাকুক।

তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, ভয় দেখিয়ে জয় করা যায় না, জয় করতে হবে ভালোবেসে। পড়াশোনা শেষে চাকরি না পাওয়া তারুণ্যের দগদগে ক্ষতে হাতুড়ির আঘাত না করে মমতার পরশ বোলানো হোক। সচিব কমিটি তাদের কাজ করুক। পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে একটা কমিটি আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলুক। তাদের পিঠে সান্তনার হাত রাখুক। তরুণ প্রজন্ম তো সরকারের প্রতিপক্ষ নয়। তাদের জোর করে প্রতিপক্ষ বানাতে হবে কেন?

যারা ভিসির বাসায় হামলা করেছে, চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু স্রেফ আন্দোলন করা বা আন্দোলন সমর্থন করার কারণে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হয়।-আমাদেরসময়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন