শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০২:১৯:৩৬ এএম

সিটি নির্বাচন: টাকার ছড়াছড়ি নানা গুঞ্জন

রাশেদ মেহেদী ও সৌরভ হাবিব, রাজশাহী থেকে | রাজনীতি | রাজশাহী | শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮ | ১২:১৫:২৮ পিএম

রাজশাহী সিটি নির্বাচন ঘিরে চলছে টাকার ছড়াছড়ি- এমন অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের। পরস্পরের বিরুদ্ধে তারা টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলছেন কয়েকদিন ধরে। যদিও এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি কোনো পক্ষ। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে তাদের এমন অভিযোগ নিয়ে গুজব ও গুঞ্জনে শান্তির শহর রাজশাহীর বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। নির্বাচন সামনে রেখে শহরের আশপাশের এলাকায় ক্যাডার জড়ো করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর। এমন প্রেক্ষাপটে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। অবশ্য রাজশাহীর রিটার্নিং অফিসার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার সকল প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার গুজব নিয়ে চর্চা চলছে ভোটারদের আড্ডা-আলোচনায়। সরেজমিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। টাকা ছড়ানোর গুজবে হাওয়া দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী নির্বাহী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বুলবুল অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন শুরু থেকেই কালো টাকার দাপট দেখাচ্ছেন। পোস্টার ছাপতেই নির্ধারিত ব্যয়সীমার চেয়ে ১৫ লাখ টাকা বেশি খরচ করেছেন তিনি। ভোটারদের প্রভাবিত করতেও টাকা ছড়াচ্ছেন। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে বহিরাগত ক্যাডার ও সন্ত্রাসীরা এসে লিটনের পক্ষে বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাসে মহড়া দিচ্ছে বলেও দাবি করেন বুলবুল।

ধানের শীষের প্রার্থীর এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন বলেন, নৌকার পক্ষে বিপুল গণজোয়ারে ভীত হয়ে বিএনপি প্রার্থী মিথ্যাচার করছেন। কালো টাকা ছড়ানোর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে লিটনের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাদের কাছে তথ্য আছে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা ভোট কেনার জন্য ১৫ কোটি ছড়ানোর ব্যবস্থা করে গেছেন। বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিএনপি প্রার্থীর কর্মীদের একটি গাড়ি অনুসরণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাজশাহীর পদ্মাপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা রাজীবকে চাপা দিয়ে গাড়িটি পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত রাজীব এখন চিকিৎসাধীন।

আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণের দিন বিশৃঙ্খলা ঘটাতে আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি প্রার্থী দাগি আসামি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার এনে জড়ো করছেন বলেও তথ্য রয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সিটি নির্বাচন ঘিরে কোনো পক্ষই কালো টাকা ছড়াচ্ছে না। এসব নিছক অভিযোগ। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বন্ধ করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে বলেও মন্তব্য করেন রাজশাহী বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক দল। কালো টাকা, পেশিশক্তি, অপপ্রচার ও কটূক্তির রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী নয়। রাজশাহীর সাবেক এই মেয়র আরও বলেন, গত নির্বাচনে ভুল করে কিংবা আশা নিয়ে ভোটাররা বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু বিএনপির মেয়র কোনো উন্নয়ন করেননি। রাজশাহী পিছিয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে ভোটাররা এমন ভুল করবে না বলে আশা ব্যাক্ত করে লিটন বলেন, রাজশাহীতে নৌকার পক্ষে অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্রই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩০ জুলাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন তিনি।

-সমকাল

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন