বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ ১২:১৪:০৮ এএম

সিলেট সিটি নির্বাচন: কেন্দ্র দখল, পুলিশ বলছে স্বাভাবিক বিষয়! (ভিডিও)

রাজনীতি | সোমবার, ৩০ জুলাই ২০১৮ | ১২:৫৮:০৩ পিএম

সিলেট শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার ফলে সেখানে আধা ঘন্টার মত ভোট নেয়া বন্ধ রাখে প্রিজাইডিং অফিসার।

সোমবার (৩০ জুলাই) সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তিন ঘণ্টা না যেতেই এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

এ ব্যাপারে বিএনপির মেয়র পদে মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কর্মীরা সেই কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগও করেন। তবে সেই অভিযোগ পুলিশ আমলে নেননি বলেও জানান সেই কর্মীরা। পরে নগরীতে বিক্ষোভ করেন তারা।

এ ব্যাপারে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিছুক্ষণ ভোট বন্ধ রাখা হয়েছিল। আবার চালু করা হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণনা করে দেখা হচ্ছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে ভোটগ্রহণ চালু করা হবে।

এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ‘শঙ্কা’ প্রকাশ করেন মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। বলেছেন, ‘জনগণ ভোট দিলে জনরায় মেনে নেব। তবে জনগণের ভোট যদি অন্য কেউ দেয় সেই রায় মেনে নিব না।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘কাজী জালাল উদ্দিন প্রাইমারি স্কুলে রাতে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। সেখানে বন্দুক দিয়ে তাড়া করা হয়েছে। রাতে কেন্দ্রে এত লোক কেন ঢুকলো, কিভাবে ঢুকলো, লাইট জ্বালিয়ে তারা কী কাজ করলো?’

‘আমার আশঙ্কা প্রিসাইডিং অফিসার ব্যালটে সিল মেরে আলমারিতে রেখে দিয়েছেন; এখন শুধু সুযোগের অপেক্ষা! যে কোনো সময় ওই ব্যালট বাক্সে ভরে দেবেন।’

এছাড়া ১০ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে আগেই ব্যালটে ছিল মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আরিফুল।

বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন অফিসাররা যদি অন্য কোনো মতলব নিয়ে এসে থাকেন তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক। এই পবিত্র মাটিতে এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত।’

আরিফুল হক বলেন, ‘এজেন্ট, কর্মীদের হয়রানি করে গণজোয়ার থামানো যাবে না। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রে জড়ো হয়েছেন। কোনো ধরনের প্রহসনের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’

এসময় আরিফুল হক ঘোষণা দেন ‘শহীদ হলেও ভোটের মাঠ ছাড়বেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন। প্রয়োজনে শাহাদাৎ বরণ করবেন কিন্তু ভোটের মাঠ ছাড়বেন না।’

সিলেট সিটি নির্বাচনে ৭ মেয়রপ্রার্থী হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. বদরুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। বাকি ৬ মেয়রপ্রার্থী মাঠে রয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেট সিটিতে মেয়র পদে আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও আরও ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা), বিএনপির বিদ্রোহী (বাস), স্বতন্ত্র হিসেবে জামায়াতের এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি), ইসলামী আন্দোলনের মোয়াজ্জেম হোসেন (হাতপাখা), সিপিবি-বাসদের আবু জাফর (মই) এবং স্বতন্ত্র এহসানুল হক তাহের (হরিণ)।

এ সিটিতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ ও নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিলেট সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৭ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।বিডি২৪লাইভ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন