সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ ০৮:৪২:১৩ এএম

কোটা নেতা রাশেদসহ ৬ জনের জামিন শুনানি ২৭ আগস্ট

শিক্ষাঙ্গন | সোমবার, ৩০ জুলাই ২০১৮ | ০৫:১৪:৩৯ পিএম

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ ছয়জনের পক্ষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৭ আগস্ট জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েসের আদালতে রাশেদদের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া এ আবেদন করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসির বাসভবনে ভাঙচুর, নাশকতার ঘটনা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগের মামলা রয়েছে।

আদালতের সেরাস্তাদার মোহাম্মদ রাশেদ এ বিষয়ে জানান, জামিনের আবেদন করা অন্য আসামিরা হলেন তরিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, জসিম উদ্দিন, মশিউর রহমান ও সোহেল।

মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, রাশেদের বিরুদ্ধে ভিসির বাসভবনে ভাঙচুর ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি এ দুই মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছে। অপরদিকে জসিম, মশিউর ও সোহেলের বিরুদ্ধে নাশকতা ও ভিসির বাসভবনে ভাঙচুরের দুই মামলায় এবং তরিকুল ও জসিমের বিরুদ্ধে ভিসির বাসভবনে ভাঙচুরের একটি মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়। সব মামলার শুনানি আগামী ২৭ আগস্ট শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ২ জুলাই রাশেদকে গ্রেপ্তার করে সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ দুই দফায় রিমান্ডে নেয়।

এর আগে গত ১ জুলাই শাহবাগ থানায় আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খানের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়।

মামলার নথিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন, যা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়াধীন। এরপরও গত ২৭ জুন রাশেদ খান ‘কোটা সংস্কার চাই’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে ভিডিও লাইভে এসে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মানহানিকর বক্তব্য ও মিথ্যা তথ্য দেন।

গত ১ জুলাই রোববার রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের ভাসানটেক বাজারের মজুমদার মোড়ের ১২ নম্বর বাসা থেকে রাশেদ খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে, গত ৩১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে বাধা দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে ১০ জনের মতো আহত হয়। আহতরা অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এর পর পরই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ অধিকার ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে ‘সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে ওই দিন থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং সারা দেশে বিক্ষোভ অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা। পরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়। আন্দোলনকারীরা এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিলও করে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন