মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ ০৭:৫৯:১০ পিএম

শহিদুল ইসলাম বাবলু একজন কর্মীবান্ধব সংগ্রামী নেতা

শাহজাহান ডাক্তার | খোলা কলাম | বগুড়া | শনিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:৩২:৫৩ পিএম

আজকের শহিদুল ইসলাম বাবলু ভাই একদিনে তৈরি হয়নি। যুগ যুগ ধরে পরিশ্রম করে নিজ যোগ্যতাবলে মানুষের ভালবাসা নিয়ে এতদূর এগিয়ে এসেছেন। বিএনপি'র জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এই দলের সাথে যুক্ত আছেন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে পা দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু হয়। পরিশ্রম আর মেধায় অল্পদিনের মধ্যেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এই পরিশ্রমের ফলও তিনি পেয়ে যান। ১৯৮২ সালে তিনি সর্বসম্মতিকক্রমে শেরপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ছাত্রদলের সাঃ সম্পাদক হয়েই তিনি শেরপুরবাসীর নজরে আসেন। তাঁকে আর পিছুনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তমুল জনপ্রিয়তায় ১৯৮৮ সালে তিনি শেরপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তখন থেকে তিনি ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু নামে পরিচিতি পান। মাত্র চার বছরের ব্যবধানেই ১৯৯২ সালে তিনি শেরপুর থানা বিএনপি'র সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি শেরপুর উপজেলা বিএনপি'র সাঃ সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। এরমধ্যে তিনি দুইবার বগুড়া জেলা বিএনপি'র সহ সভাপতির আসন অলংকৃত করেন। একবার সারিকান্দি-সোনাতলা সহ চারটি থানার আহবায়কের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন। ছোনকা রহিমা-নওশের আলী ডিগ্রি কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তাঁর হাতেই শিক্ষকদের বেতনভাতা অনুমোদন হয়।

১৯৯৬ থেকে ১/১১ এর মঈনউদ্দিন-ফকরুদ্দিনের আমল পর্যন্ত আমি তাঁর খুব কাছে থেকে দেখেছি- এই নেতার আন্দোলন-সংগ্রামের সুঁতিকাগাথা। ২০০০ সালে ৪৮ ঘন্টার একটা হরতালে শেরপুরের রাজপথে পিকেটিং করার সময় পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। বাবলু ভাই পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে মিছিল মিটিং পিকেটিং করেছিলেন। ১/১১ এর সরকারের আমলে বাবলু ভাই শেরপুরের রাজপথে লাঠিচার্জের স্বীকার হয়েছিলেন। তবুও তিনি দমে যাননি। শেরপুরে ছাতি ধরার মত নেতা আছেন, গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো ডিগবাজি খাওয়া নেতা আছেন কিন্তু বাবলু ভাইয়ের মত ত্যাগী কর্মঠ কর্মীবান্ধব রাজপথ আঁকড়ে ধরে থাকার মত ক্লিন ইমেজের লোক নাই। বাবলু ভাই যতবার গ্রেফতার হয়েছেন, বাবলু ভাইয়ের বাড়িতে যতবার পুলিশী তল্লাসী চালানো হয়েছে, বাবলু ভাই যতবার গ্রেফতার এড়ানোর জন্য গা ঢাকা দিয়েছেন, বাবলু ভাই যতবার নির্যাতিত হয়েছেন, শেরপুরে এমন নির্যাতনের স্বীকার আর কোন নেতা হয়নি।

কি বিরোধীদলে কি সরকারী দলে- বাবলু ভাই সবসময় নেতাকর্মীদের বিপদ আপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২০০৫ সালে জজকোর্টে একটা মামলায় জামিন নেওয়ার জন্য আমি বাবলু ভাইয়ের সহযোগীতা চাইলাম। বাবলু ভাই বললেন- জজকোর্টে গিয়ে পিপি সাইফুল ইসলামের সাথে দেখা করিস, আমি বলে দিবো। কোর্টে যেতে আমার দেরী হয়েছে কিন্তু বাবলু ভাইয়ের যোগাযোগ করতে দেরী হয়নি। যাওয়ার সাথে সাথে দেখি তৎকালীন পিপি সাইফুল ভাই ফাইল রেডি করে রেখেছেন। আমি টাকা দিতে চাইলেও তিনি টাকা নিলেন না, বললেন- তোমরা দলের ছেলেপেলে তাছাড়া বাবলু ভাই ফোন করেছিল, টাকা নিলে উনি মন খারাপ করবেন। ২০০৬ সালে সেরুয়া নামাপাড়ায় আমার সাথে পুলিশের একটা ঝামেলা হয়েছিল। আমি মটরশ্রমিকের মতি ভাই ও স্বাধীন কুমার কুন্ডু ভাইকে ঘটনা খুলে বললাম। তাঁরা ঘটনা শুনে ইতস্তত হয়ে বললেন- পুলিশের সাথে ঝামেলা! কাজটা ঠিক হয়নি। আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম। বাবলু ভাইকে ঘটনাটা ফোনে জানালাম। বাবলু ভাই বললেন- তুই এলাকাতেই থাক, আমি দেখছি। ভাই গভীর রাত পর্যন্ত থানায় দেন দরবার করে ঘটনাটা ফয়সালা করেন। তারপর আমাকে ফোন দিয়ে বললেন- যা ঠিক করে ফেলেছি, আর কোন সমস্যা নাই। আলহামদুলিল্লাহ্‌! আর কোন সমস্যা হয়নি।

মঈনউদ্দিন-ফকরুদ্দিন যেমন খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল তেমনি একটি কুচক্রীমহল শেরপুরের রাজনীতি থেকে বাবলু ভাইকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। কিন্তু কথায় আছে না- যে আপনি যদি কাউকে গর্তে ফেলতে চান তাহলে সেই গর্তে নিজেও পড়তে পারেন। মঈনউদ্দিন-ফকরুদ্দিন আজ দেশান্তরী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কিছু কিছু জ্ঞানপাপীরা বলে থাকেন- বাবলু ভাই শেরপুরের লোক নয়। এই আহম্মকেরা জানে না যে, কোন লোক এক জায়গায় তিন বছরের বেশী সময় ধরে বসবাস করলে, সে ঐ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে গন্য হয়। সেখানে বাবলু ভাই স্বাধীনতার আগে শেরপুরে এসে বসবাস শুরু করেছেন। স্পীকার শিরিন শারমিনের বাড়ি নোয়াখালী কিন্তু তিনি সংসদ সদস্যা রংপুরের। হুসাইন মোঃ এরশাদের বাড়ি রংপুর আর নানকের বাড়ি বরিশাল কিন্তু তাঁরা ঢাকার এমপি হয়েছিলেন। এরকম বহু উদারণ আছে। তাই জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো।

তৃণমূলের সাথে যে নেতার সম্পর্ক, তাঁকে কি উপড়ে ফেলানো যায়। তাই আমাদের প্রিয়নেতা শহিদুল ইসলাম বাবলু ভাই স্ব-মহিমায় ফিরে এসেছেন শেরপুরের রাজনীতির মাঠে। শেরপুর বিএনপি'র রাজনীতির মাঠে সর্বত্র চাউর উঠেছে যে- আগামী সম্মেলনে ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু ভাই-ই হচ্ছেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। মহান আল্লাহ্‌পাক আপনার সহায় হোন। আমীন!



লেখকঃ নজরুল ইসলাম, শেরপুর, বগুড়া


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন