বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭ ০৫:২৬:০৮ এএম

কিশোরগঞ্জে পুত্র সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা

ফটোগ্যালারী | রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ০২:৩৪:০৫ এএম

জেলার ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দির চানপুর গ্রামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তার মা। এ ঘটনায় পুলিশ শিশুটির মা শিরিন বেগমকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ওই এলাকার মোবারক মিয়ার স্ত্রী।  শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। 
নিহত শিশুর নাম ইয়ামিন। সে মোবারক ও শিরিন বেগমের ছোট ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়,  শনিবার সকাল ৮টার দিকে শিরিন তাঁর স্বামী মোবারককে লবণ আনতে দোকানে পাঠান। এ সময় রান্নাঘরে মায়ের পাশে বসে ছিল শিশুপুত্র ইয়ামিন। হঠাৎ শিরিন ছেলে ইয়ামিনকে জ্বলন্ত চুলায় গুঁজে দিয়ে ভাতের ফুটন্ত হাড়ি সেই চুলায় ঢেলে দেন। রান্নাঘরের অদূরে বসে থাকা শিরিনের পাঁচ বছর বয়সী অপর ছেলে রিফাত সেই দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীদের খবর দিলে শিরিন পালিয়ে যান। এ সময় প্রতিবেশীরা জ্বলন্ত আগুন থেকে শিশু ইয়ামিনের প্রায় অঙ্গার হয়ে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু তাহেরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা পাশের নবীপুর গ্রাম থেকে শিরিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শিরিনের স্বামী মোবারক মিয়া জানান, প্রায় ১২ বছর আগে ভৈরবের আগানগর গ্রামের রঙ্গু মিয়ার মেয়ে শিরিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের বড় ছেলে রবিন চতুর্থ ও দ্বিতীয় ছেলে রুমান তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তৃতীয় ছেলে রিফাতকে (৫) এখনো স্কুলে দেওয়া হয়নি। ইয়ামিন ছিল সবার ছোট, কোলের শিশু। ইয়ামিনের বড় আর একটা ছেলে ছিল তাঁদের। দুই বছর আগে বাড়ির পাশের বিলের পানিতে ডুবে সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলে লিফাত মারা যায়। এরপর থেকে তাঁর স্ত্রী শিরিন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বদরুল আলম তালুকদার জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক শিরিন সন্তান হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

 

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন