বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৪:০৫:৩৬ এএম

পঁচনের তলানীতে পৌঁছে গেছি ?

রাজু আহমেদ | খোলা কলাম | বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১১:৩৩:৫২ এএম

শরীয়তপুরে ২১ মাসের শিশু ধর্ষিতা ! ধর্ষক ১৮ বছরের তরুণ । টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী টানা ৫দিন প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শেষে সেখানেই বিষপাণে আত্মহত্যা ! প্রেমিকা বাড়িতে এসেছে শুনে
প্রেমিকের বাড়ি থেকে পলায়ণ । এসব জেনে খুব যত্ন করে বলতে ইচ্ছা করে, কর্ণ তুমি বধির হও, চোখ অন্ধ হও, মুখ মুক রও, অনুভূতি স্থূলতা দেখাও, বিবেক ঘুমাও নিরালে । এর বাইরে কি বলার আছে ?
আর কতটা বলার যোগ্যতাই বা আমরা রাখি ? একজন ১৮ বছরের তরুণের কাছে যখন ২১ মাসের শিশু নিরাপদ না হয় তখন চপেটাঘাত জুটে যায় তারুণ্যের ভালে । মোবাইলের প্রেম কতটা শক্তিশালী হলে প্রেমিকের বাড়িতে অনশণ করতে পারে প্রেমিকা ? সমাজ সংস্কারকরা একবাক্যে বলে দেবেন এগুলো বিচ্ছিন্ন ব্যাপার । আর কতগুলো শিশু ধর্ষিতার ভাগ্যবরণ, আত্মহত্যা করলে সেগুলো নিয়ে ভাবনার সময়
আসবে তা বোধহয় কোনদিন নির্ধারিত হবেনা । সমাজ সংস্কারকরা যুক্তি-পাল্টা যুক্তির খেলা খেলবেন অথচ সমস্যার মূল তলিয়ে দেখবেন না একবারও ।
কিসের কারনে আজ সমাজ এমন ব্যধিতে রুগ্ন হলো তা প্রকাশ করার ভার কার ? সবাই শাস্তি চেয়ে চিৎকার করে যাবো কিন্তু শাস্তি কি অপরাধ কমাতে সক্ষম ? যেসব আনুষাঙ্গিক উপসর্গ তারুণ্যকে বিপথে টানলো সেসব উপলক্ষণের মনোদৈহিক চিকিৎসার ভার কে নেবে ? কে তারুণ্যকে উপহার দেবে সুস্থ সংস্কৃতি ? নৈতিক শিক্ষা দ্বারা এ জাতিকে আবারও উজ্জীবিত করবে কে ? স্বার্থ হাসিলের অন্ধ খেলায় যখন গোটা সমাজ মগ্ন তখন কে এগিয়ে আসবে সমাজের সকল অসুস্থতা দূরীকরণের তীব্র বাসনা নিয়ে ? 
চারদিকে যা শুরু হয়েছে তাতে ২১ মাসের কেন ২১ দিন কিংবা ২১ ঘন্টার কেউ ধর্ষিত-ধর্ষিতা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে কি ? প্রেমিক-প্রেমিকা রাতের পর রাত হোটেলের বদ্ধ ঘরে, পার্কের নির্জন বেঞ্চিতে কাটালেও যারা সেটা অপরাধ হিসেবে উল্লেখ না করে বরং আরও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তারা হয়ত দু’চার’শ প্রেমিকার আত্মহত্যা, প্রেমিকের পলায়ণকে কোনভাবেই দূর্ভাবনার কারন বলে মানতে চাইবে না । এসব খুব স্বাভাবিক, দিনে দিনে আরও স্বাভাবিক হয়ে যাবে !
চারদিকে চরমভাবে ভাঙ্গনের খেলা চলছে । সমাজনীতি, রাজনীতির সাথে ধস নেমেছে মানুষের বিবেকবোধেও। ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা-অনৈতিকতা, ঔচিত্য-অনৈচিত্রের ভেদ ধরিয়ে দিয়ে সুপথে চলার আদেশ এবং বিপথ পরিহার কার নিষধ করার মত যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি তরুণ প্রজন্নকে তলাচ্ছে খুব । পরের মা-বোনের চেয়ে নিজের মা-বোন আজ বেশি অনিরাপত্তায় ভূগছে আপনদের দ্বারা । সর্বত্র কেবল কলুষতার ঘনঘটা শুরু হয়েছে । লাগাম টানতে না পারলে আমাদের ভূগতে হবে বহু । আর্থিক ধস কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা মানুষের আছে কিন্তু চারিত্রিক ধস শুরু হলে পঙ্গুত্ব বরণ করবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম । 
একবার ভাবুন, ভেবে জাগুন। মানুষ হতে না পারলে আমাদের পঁচনের গন্ধ বের হবে না হয়ত কিন্তু আমাদের সৃষ্ট ক্ষত দহন করবে গোটা সমাজকে । দিনে দিনে তলিয়ে যাবো অন্ধকারের অতল গহ্বরে ।
রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
fb.com/rajucolumnist/
এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।ইউরোবিডিনিউজ এবং ইউরোবিডিনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন